২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির, মহাষষ্ঠীতে দর্শনার্থীদের ভিড়
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
ছবি-ধরলা পোস্ট
অনিল চন্দ্র রায়, লালমনিরহাট থেকে ফিরে:
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠী ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সেবাসমিতি এলাকায়। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির দেখতে ভিড় করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক আয়োজন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। নান্দনিক নির্মাণশৈলী ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জায় মন্দিরটি ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বাইরের দর্শনার্থীদেরও দৃষ্টি কেড়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী উপলক্ষে সেবাসমিতি এলাকার স্কুল মাঠে নির্মিত মন্দিরটিতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা যায়। প্রায় তিন মাস ধরে নির্মাণকাজ চালিয়ে মন্দিরটি সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দির নির্মাণ, দুর্গাপ্রতিমা ও অন্যান্য প্রতিমা তৈরি এবং সাজসজ্জা মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা অতশী রায় বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও সবাই মিলে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের অপেক্ষায় রয়েছি।”
রাজারহাট থেকে মন্দিরটি দেখতে আসা অপূর্ব রায় বলেন, “বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার জীবনে কুড়িগ্রাম কিংবা লালমনিরহাটে এত বড় ও দৃষ্টিনন্দন দুর্গাপূজার মণ্ডপ দেখিনি। আজ নিজের চোখে দেখে খুব ভালো লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইতি রানী বলেন, “প্রতিদিনই মন্দিরটি দেখতে আসি। তবুও দেখার যেন মন ভরে না। দিনে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার পর্যন্ত মন্দিরে ঘুরে যাই। রাতে মন্দিরটি দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইতি রানী বলেন, “প্রতিদিনই মন্দিরটি দেখতে আসি। তবুও দেখার যেন মন ভরে না। দিনে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার পর্যন্ত মন্দিরে ঘুরে যাই। রাতে মন্দিরটি দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
মানিক চন্দ্র রায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরবঙ্গের এই দৃষ্টিনন্দন পূজামণ্ডপের ছবি ও ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বাস্তবে মন্দিরটি দেখেও ভালো লাগছে। যিনি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁকে অনেক ধন্যবাদ।
স্থানীয় শিক্ষক মৃণাল চন্দ্র রায় বলেন, “আমাদের মাঠেই এমন একটি দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় দুর্গামন্দির নির্মিত হয়েছে, যা আমাদের জন্য আনন্দের। প্রায় তিন মাস ধরে এর নির্মাণকাজ চলে। এ সময়ের মধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মন্দিরটি দেখতে এসেছেন। শুরুতে এ উদ্যোগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ছিল। সবকিছু পেরিয়ে স্থানীয় রতন চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মন্দির নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা রতন রায় বলেন, “আমি ছোট পরিসরে ডেকোরেটরের ব্যবসা করি। অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল, আমাদের এলাকায় এমন একটি দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির নির্মাণ করব। ভারতের বিভিন্ন স্থান এবং বাংলাদেশের দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলার দৃষ্টিনন্দন মন্দির দেখে এই স্বপ্ন তৈরি হয়। সেই ইচ্ছা থেকেই কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ৩২ সদস্যের মন্দির কমিটি, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিম ভাইয়েরা আমাকে সাহস ও সহযোগিতা দিয়েছেন। প্রথমে ২২ লাখ টাকা বাজেট ধরে কাজ শুরু করেছিলাম। দুর্গার মূল প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
দর্শনার্থীদের প্রণামি প্রসঙ্গে রতন রায় বলেন, “স্থানীয় কিংবা দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রণামির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। যার যতটুকু ইচ্ছা, তিনি ততটুকু দেবেন; ইচ্ছা না হলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা হলো, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ায় মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দৃষ্টিনন্দন এই মন্দির দেখতে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।